“অসীম কালের যে হিল্লোলে, জোয়ার-ভাটায় ভুবন দোলে/ নাড়িতে মোর, রক্তধারায়, লেগেছে তার টান…”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রূপকথাসম এই ব্রহ্মাণ্ড। অপার মহাকাশ। তার ভিতরে সাজানো রয়েছে অসংখ্য ছায়াপথ, গ্রহ-নক্ষত্র, উপগ্রহ, ধূমকেতু, কৃষ্ণগহ্বর, গ্রহাণু…। ছুটে চলেছে, উদ্দেশ্যহীন, অনন্ত আঁধারে। কেউ জ্বলছে, কেউ নিভছে। কোথাও সৃষ্টি, তো কোথাও ধ্বংস। কণা থেকে প্রাণ, প্রাণ থেকে সভ্যতা। তাও কাটেনি বিস্ময়ের ঘোর। যেমন করে একদিন প্রাণ, জল ছেড়ে উঠে এসেছিল ডাঙায়, বিবর্তনের ইতিহাস তার নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলো, তেমনই আজ পৃথিবীর মাটি ছেড়ে মহাপ্রাণ পাড়ি দিচ্ছে মহাকাশে। যে বিস্ময়ের ঘোর লাগা চোখে, মানুষ কিছু বিশেষ মহাজাগতিক বস্তুর নাম দিয়েছিলো প্ল্যানেট (অর্থ- ভবঘুরে/Wanderers), সেই বিস্ময়ের পথ ধরে হেঁটে গেছেন প্রাচীন ইনকারা আর আর্য-অনার্যরা। শুক্রগ্রহের উপর করা তাঁদের গাণিতিক হিসাব-নিকাশ নিয়ে। হেঁটে গেছেন কোপারনিকাস, গ্যালিলিও, কেপলার। তৈরি হয়েছে ব্রহ্মাণ্ডতত্ত্ব, জ্যোতির্বিজ্ঞান। আমি সেই মহাজ্ঞানের এক ক্ষুদ্র ছাত্র।
আমার বেড়ে ওঠা পূর্ব মেদিনীপুরের হামিরপুর গ্রামে। জায়গাটা দীঘার কাছকাছি। আমাদের গ্রামে খুব লোডশেডিং হতো। তার একটা ভালো দিক ছিলো, রাতের দিকে মাঝেমধ্যেই বাড়ির ছাদে, খোলা আকাশের নিচে, সময় কাটাতে হতো। গ্রামের দিকে এমনিতেই শহরের তুলনায় দূষণ অনেক কম। আকাশ দেখা যেতো পরিষ্কার। সব শিশুর মতন আমিও অবাক চোখে তাকিয়ে থাকতাম রাতের আকাশের দিকে। সেই থেকেই বোধহয় মহাকাশের প্রতি টান তৈরি হয়ে গিয়েছিলো। তারপর স্কুলের শেষের দিকে প্রখ্যাত মহাকাশবিজ্ঞানী এবং বিড়লা তারামণ্ডল (Birla Planetarium)-এর অধিকর্তা দেবীপ্রসাদ দুয়ারী (Debiprosad Duari)-র কিছু বক্তৃতা শোনার সুযোগ এবং তাঁর সান্নিধ্য সেই ভালোবাসা আরও বাড়িয়ে দেয়। এরপর, স্কুল পাশ করে কলকাতায় পড়তে আসা, তারপর বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর। সেই সময়ে, আমি একবার এক বন্ধুর সঙ্গে আইইউকা পুণে (IUCAA)-তে গিয়েছিলাম, হস্তনির্মিত টেলিস্কোপ তৈরি করতে। সেখানে গিয়ে বুঝতে পারলাম, বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেও স্বচ্ছ্বল, সম্মানজনক জীবন কাটানো যায়। তারপর জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা জীবনে প্রবেশ। প্রশ্ন করা শিখলাম, শিখলাম কীভাবে প্রশ্নের মাধ্যমে খুঁজতে হয় উত্তর। এইভাবেই আমার জীবনের পথ বেঁধে দিয়েছে ব্রহ্মাণ্ড।

নিজের কথা না বলে এবার মহাকাশ নিয়ে কিছু কথা বলা যাক। আমার নিজের খুবই পছন্দের জায়গা হলো মহাবিশ্বের ইতিহাস। মহাবিশ্বের জন্ম, বেড়ে ওঠা, গ্যালাক্সির জন্ম ও বিবর্তন আমাকে বরাবর আকর্ষণ করেছে। তাই সেই সংক্রান্ত একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খানিক আলোচনা করছি, যা জুড়ে আছে আমার বর্তমান গবেষণার সঙ্গেও। তাকে বলে কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন (Cosmic Microwave Background Radiation)। আমার একসময় মনে হতো, এই যে ব্রহ্মাণ্ড নিয়ে এত তত্ত্ব, ব্রহ্মাণ্ডের জন্মের ইতিহাস, এসব নিছকই তাত্ত্বিক। শুধুই অঙ্ক আর অনুমান। আপনাদের অনেকেরও নিশ্চয় তেমনই মনে হয়। কিন্তু আজ জানি, সেসব কেবল তত্ত্ব নয়, সেসব প্রামাণ্যও বটে। আমি আর আমার মতন আরও অনেকের পুরোনো ভুল ধারণা ভেঙে দেওয়ার মূলে আছে কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন।
এর গল্প বলতে হলে মহাবিশ্বের জন্মের পরবর্তী সময়ের কথা বলতে হয়। বিগ ব্যাং নামক মহাবিস্ফোরণের পর মহাবিশ্বের বয়স যখন মাত্র ৩ মিনিট, তখন তা ছিলো একটা প্রচণ্ড উষ্ণ স্যুপের মতো। সেখানে তখন চঞ্চল হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে অসংখ্য কণা। প্রোটন, নিউট্রন, ইলেকট্রন, ফোটন, ডার্ক ম্যাটার ইত্যাদি। তারা নিজেদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ায় লিপ্ত। আলোর মূল উপাদান ফোটন তখন মুক্ত নয়, ইলেকট্রনের দ্বারা বিক্ষিপ্ত হচ্ছে অনবরত। এরপর মহাবিশ্বের বয়স যখন মাত্র ৩,৮০,০০০ বছর (মাত্রই বটে, কারণ ব্রহ্মাণ্ডের বর্তমান বয়স প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর), তখন ইলেকট্রন আর প্রোটন মিলে তৈরি হলো হাইড্রোজেন পরমাণু। ফোটন কণাগুলিকে আর ইলেকট্রন দ্বারা বিক্ষিপ্ত হতে হলো না। মুক্তি পেয়ে তারা ছুটে গেল চারিদিকে, মহাবিশ্বের ছোটোবেলার গল্প সঙ্গে নিয়ে।
কাট টু : অধুনা মহাবিশ্ব। তৈরি হয়ে গেছে গ্রহ, তারা, গ্রহাণু। সৃষ্টি হয়েছে প্রাণ, তৈরি হয়েছে সভ্যতা। বিখ্যাত মহাকাশবিজ্ঞানী কার্ল সাগানের ভাষায়, “matter turns into consciousness”। ১৯৬৪ সাল। দুই বিজ্ঞানী আর্নো পেনজিয়াস (Arno Penzias) আর রবার্ট উইলসন (Robert Wilson) নিউ জার্সির বেল ল্যাবরাটোরিতে গবেষণা চালাচ্ছেন হর্ন অ্যান্টেনা নিয়ে। হঠাৎ তাঁরা খুঁজে পেলেন একটা অজানা তরঙ্গ। বারবার পরীক্ষা করলেন, টেলিস্কোপের মুখ ঘোরালেন বিভিন্ন দিকে। তবু সেই তরঙ্গের অস্তিত্ব মুছে গেল না কিছুতেই। হর্ন অ্যান্টেনার উপর জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করলেন। তাতেও যে কে সেই। গেলেন তাত্ত্বিক মহাকাশবিজ্ঞানী রবার্ট ডিকি (Robert Dicke) আর জিম পিবলস (Jim Peebles)-এর কাছে। তাঁরা অঙ্ক কষে বার করলেন মহাবিশ্বের বিবর্তনের মডেল। সেই অনুযায়ী, পাওয়া গেল এক বিশেষ তরঙ্গ, যা বিগ ব্যাং-এর পর যখন ব্রহ্মাণ্ড ঠাণ্ডা হতে শুরু করেছে, তখন উদ্ভব হয়ে ছুটে গিয়েছিল সবদিকে। বাস্তবে সেটিই কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন, যা কাল-পারাবার পার করে ধরা পড়েছে বিজ্ঞানীদের টেলিস্কোপে। যতদূর মনে পড়ছে, শক্তি চট্টোপাধ্যায় শ্রীমদ্ভগবদগীতার ‘বিশ্বরূপ দর্শন’ অধ্যায়ের অনুবাদ করতে গিয়ে একজায়গায় লিখেছিলেন, ‘আদির অনাদি আমি, অনাদির আদি’। এই তরঙ্গও যেন তাই, যার মধ্যে ধরা আছে মহাবিশ্বরূপ।
এই তরঙ্গের তাপমাত্রার হেরফের, শক্তি, আর তড়িৎচৌম্বকীয় ধর্মের হিসাব করে বোঝা যায় আদি ব্রহ্মাণ্ডের স্বরূপ। এখন মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর। আর আমরা এখনও পর্যন্ত খুঁজে পেয়েছি ০.৩৮ মিলিয়ন বছর বয়সী মহাবিশ্ব কেমন ছিলো, তার স্বরূপ। এই তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে। সারা বিশ্বের মহাকাশবিজ্ঞানীরা এখন চেষ্টা করছেন এই তরঙ্গের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য মাপার, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে CMB B-mode polarisation। তা মাপতে পারলে আমরা জানতে পারবো, সৃষ্টির মাত্র ১০^-৩০ সেকেন্ড পর সদ্যোজাত ব্রহ্মাণ্ড কেমন ছিলো। এই তরঙ্গ ছুটে আসছে, বিপুল অতীত থেকে, সব গ্যালাক্সি, ব্ল্যাকহোল, ক্লাস্টার, নেবুলার গা বাঁচিয়ে, আমাদের আদিমকালের খবর জানাতে— “বিপুল তরঙ্গ রে, সব গগন উদ্বেলিয়া, মগন করি, অতীত-অনাগত, আলোকে উজ্জ্বল, এ কী আনন্দ তরঙ্গ…”। শুধুই কি বিজ্ঞানীরা দেখেন এই তরঙ্গ? না তো! আমরাও দেখি, দেখে আসছি ছোটোবেলা থেকে! ডিশ অ্যান্টেনাযুক্ত টিভির কথা মনে আছে? যখন তাতে সিগনাল থাকতো না, টিভি ঝিলঝিল করতো? আমরা তাকে বলি noise। সেই noise-এর ১ শতাংশ হলো ঐ কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন! “ওই মহাসিন্ধুর ওপার হতে, কী সংগীত ভেসে আসে…”
যখন প্রথম গ্যালাক্সি তৈরি হয়, তখন সেই গ্যালাক্সি প্রচুর পরিমাণে অতিবেগুনি রশ্মি নির্গমন করে। ফলে তা চারপাশের হাইড্রোজেন, কার্বন, অক্সিজেন ইত্যাদি পরমাণুকে আয়নিত করে দেয়, এবং তাদের থেকে নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রেডিয়েশন হয়। আমার একটা কাজ হলো সেইসব তরঙ্গের মধ্যে আয়নিত কার্বন (C-Il) থেকে নির্গত ১৫৮ মাইক্রোমিটারের তরঙ্গ শনাক্ত করে গ্যালাক্সির জন্মরহস্য সন্ধান করা। গবেষণার দ্বিতীয় বিষয় হলো মিসিং ব্যারিয়ন প্রবলেম (Missing Baryon Problem)। ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি কণার কিছু নির্দিষ্ট ধর্ম আছে। এদেরকে একযোগে বলা হয় ব্যারিয়ন (Baryon)। আমাদের জ্ঞাত সব পদার্থই এসব কণা দিয়ে তৈরি। কিন্তু জ্ঞাত পদার্থগুলি সম্পূর্ণ ব্রহ্মাণ্ডের মোট ৫ শতাংশ। সেই অনুপাতে একটা গ্যালাক্সিতেও নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যারিয়ন কণা পাওয়া যাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা খুঁজে পাই তার থেকে কম। আমাদের গবেষণা বলছে, সেসব ব্যারিয়নও রয়েছে, শুধু আমরা দেখতে পাচ্ছি না। কারণ কণাগুলি এতো কম শক্তিশালী, তাই তারা কোনও আলো নিঃসরণ করে না। আর বর্তমানে কাজ করছি কিছু টেলিস্কোপ কোলাবোরেশনের সদস্য হিসাবে। সাইমন্স অবজারভেটারি, CCAT-প্রাইম, CMB-S4 ইত্যাদি। আমার গবেষণার তৃতীয় বিষয়- আধুনিক এইসব টেলিস্কোপের তথ্য বিশ্লেষণ করে মহাবিশ্ব সম্পর্কে আর নতুন কী জানা যায়, তা খুঁজে বার করা। এইসব তথ্য বিশ্লেষণ করে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে, মহাবিশ্বের গঠন-কাঠামো, ডার্ক এনার্জি, ডার্ক ম্যাটার, গ্যালাক্সির জন্ম ও বিবর্তন সম্পর্কিত অনেক তথ্য আমরা জানতে ও জানাতে পারবো।

এবার আসি কেন মহাকাশবিজ্ঞান সম্পর্কে জানা উচিৎ, সেই প্রসঙ্গে। বা বলা ভালো, মহাকাশবিজ্ঞানের গুরুত্ব সম্পর্কে। সবধরনের বিজ্ঞানেই কিছু গবেষণাগার দরকার হয়। এক্ষেত্রে মহাকাশই সেই গবেষণাগার। সেখানে ছড়িয়ে রয়েছে সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডের আদি-অনাদি চিহ্ন। ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিরহস্যের সন্ধান আসলে সেই আদিম প্রশ্নের উত্তর খোঁজা- আমরা কোথা থেকে এসেছি? সভ্যতার ইতিহাসের খোঁজের মতন এ হলো ব্রহ্মাণ্ডের ইতিহাসের খোঁজ। আর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে মহাকাশবিজ্ঞান চর্চা সম্পর্কে বলা যায়, বিজ্ঞানের সব বিভাগের মানুষ এখানে নিজের বিষয়ের আঙ্গিক খুঁজে পাবেন। এছাড়া, আমাদের আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা- জিপিএস, ইন্টারনেট, এসবই মহাকাশবিজ্ঞানের উন্নতির ফল। মহাকাশবিজ্ঞানে যে গামা-রে স্পেকট্রোস্কপি ব্যবহার করা হয়, সেই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করেন স্থপতিরা। কোনও বিল্ডিং না ভেঙে তার ভিতরের ফ্র্যাকচার নির্ণয় করা এবং সারানোর জন্য। নাসার আবিষ্কৃত, মঙ্গলের মাটি পরীক্ষার প্রযুক্তি ক্রোমাটোগ্রাফ, ব্যবহার করা হয় এয়ারপোর্টে, লাগেজ পরীক্ষা করার জন্য।
নিজের অনুভূতি লিখতে বসেছিলাম। তা দিয়েই শেষ করবো। আমি দেশে এবং বিদেশে পড়াশোনা করার ফলে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, ভারতের এবং ইউরোপ-আমেরিকায় শিক্ষার মান এবং শিক্ষকদের দক্ষতায় আকাশ-পাতাল তফাৎ নেই। অবশ্যই ইউরোপ-আমেরিকায় পরিকাঠামো খুবই উন্নত। কিন্তু বিদেশে যা শিখেছি, দেশে তার থেকে কম কিছু শিখিনি। আর দেশে আমরা সরকারি প্রতিষ্ঠানে, দেশের মানুষের করের টাকায়, জ্ঞান আরোহন করেছি। তাই দেশের মানুষের প্রতি আমাদের কিছু কর্তব্য আছে। সেই কর্তব্য কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মুখ খোলার, কর্তব্য বিজ্ঞানচর্চার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করায়। নিজে তা কতটা করি? উত্তর- “আমি কখনও বা ভুলি, কখনও বা চলি তোমার পথের লক্ষ্য ধরে”। আরও চেষ্টা করতে হবে, আরও। যাইহোক, আমি এখন আছি এল সালভাদোর নামে মধ্য আমেরিকার একটা ছোট্ট দেশে। একটা সবুজ হ্রদের ধারে বসে লিখছি। উপরে ছায়াপথ হালকা দেখা যাচ্ছে যেন। এখন এখানে রাত। অন্য কোথাও দিন, কোথাও হয়তো সন্ধে। কোথাও কোনও মা তুলসীতলায় প্রদীপ দিলেন, আমাজনের গহন বনের গাছের ডালে, উড়ে এসে বসল রঙিন ম্যাকাও। কোথাও রঙিন শহরের অ্যাপার্টমেন্টে জিমি হেনড্রিক্সের মাতাল করা গিটার শুনছেন কেউ। কেউ জানালার ধারে বসে পড়ছেন নেরুদা বা রবি ঠাকুর। কোথাও বোধহয় দুর্ভিক্ষ হচ্ছে, কোথাও প্রেম, কোথাও যুদ্ধ। এই সমস্তকিছু নিয়ে আমাদের নীল গ্রহ ছুটে চলেছে ছায়াপথে, আর ছায়াপথ, তুমি? “কাল-পারাবার, করিতেছ পার, কেহ নাহি জানে কেমনে…”।
পাদটীকা: সৌমিক দাস আমার একটা প্রায় দেড় ঘন্টার ইন্টারভিউ নিয়ে সেখান থেকে এই প্রতিবেদনটি অনুলিখন করেছে বঙ্গদর্শন অনলাইন ম্যাগাজিনের জন্য।লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে এই লিংকে।